অন্যের প্রক্সি দিতে গিয়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাংলার আলো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক বরখাস্ত রাণীশংকৈলের শিক্ষক জুয়েল রানা
অন্যের প্রক্সি দিতে গিয়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাংলার আলো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক বরখাস্ত রাণীশংকৈলের শিক্ষক জুয়েল রানা
মোঃ আকতারুল ইসলাম আক্তার, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে জারিকারক পদে লিখিত পরীক্ষায় অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২০ জুন জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে আয়োজিত জারিকারক পদে লিখিত পরীক্ষায় অন্য এক পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি দিতে গিয়ে ঢাকায় আটক হন রাণীশংকৈল উপজেলার ৭ নম্বর রাতোর ইউনিয়নের প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জুয়েল রানা। পরে লালবাগ বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ায় তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হয়ে অন্যের হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কখন অবগত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এ ঘটনায় দৈনিক বাংলার আলো নিউজে গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার ‘অন্যের প্রক্সি দিতে গিয়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড, রাণীশংকৈলের শিক্ষক জুয়েল রানাকে ঘিরে প্রশ্ন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর গত ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় অন্যের প্রক্সি হিসেবে অংশ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক জুয়েল রানাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে প্রয়াগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, রাণীশংকৈল উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর আগে অবগত ছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল কি না।
জানানো হয়ে থাকলে, এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি চাকরিতে থাকা কোনো কর্মচারী পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় আদালতে দণ্ডিত হলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই ও তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে সাময়িক বরখাস্তের পর শিক্ষক জুয়েল রানার বিরুদ্ধে আরও কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স